শিরোনাম

প্রেমের মর্যাদা দিতে হাসপাতালের পিওনকে বিয়ে করলেন নারী চিকিৎসক


বগুড়া ডেস্ক : প্রেমের মাধ্যমে পৃথিবীর সবকিছুকে জয় করা যায়। এ প্রবাদটি মিথ্যে নয়। এখন পাকিস্তানের এক দম্পতিও এটা প্রমাণ করেছেন যে অনেক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দুজন মানুষকে একত্রিত করতে পারে এ স্বর্গীয় প্রেম। তাদের অনন্য প্রেমের গল্প ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে এবং নেটিজেনদের আনন্দিত করেছে। এ প্রেমের সূত্রপাত হয় তখন যখন এক নারী এমবিবিএস ডাক্তার তারই হাসপাতালের পিওনকে ভালোবাসার প্রস্তাব দেন। ওই পিওনের কাজ ছিলো ‘চা বানানো এবং হাসপাতাল পরিষ্কার করা।’ ওই পাকিস্তানি নারী ডাক্তারের নাম কিশওয়ার সাহিবা। আর ওই হাসপাতালের পিওনের নাম শাহজাদ। ‘মেরা পাকিস্তান’ ইউটিউব চ্যানেলে এ দম্পতি তাদের অনন্য প্রেমের কাহিনি শেয়ার করেছেন। ইউটিউবার হারিছ ভাট্টির সঙ্গে কথা বলার সময়, ‘এ দম্পতি জানিয়েছেন কীভাবে তারা কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও একে অপরের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং পরস্পরের প্রেমে পড়েছেন।’ বর্তমানে এ দম্পতি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ওকারা তেহসিল এলাকার দিপালপুর শহরে বাস করছেন। ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও ক্লিপটিতে শাহজাদ বলেছেন যে তিনি কখনও এমন ভালোবাসার সম্ভাবনার কথা ভাবেননি। অন্যদিকে কিশওয়ার তার স্বামীর ব্যক্তিত্বের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন।

কিশওয়ার বলেন, শাহজাদের সঙ্গে প্রথমবার যখন দেখা হয়েছিল তখন তাকে ‘চাওয়ালা বা ক্লিনার বলে মনে হয়নি।’ আমি তার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলাম কারণ, তিনি তার নিজের ব্যবসা চালাতেন এবং খুবই সাধারণ মানুষ ছিলেন। এ সময় ওই নারী ডাক্তার বলেন, তিনি শাহজাদকে (ভালোবাসার) প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কারণ, তিনি তাকে বিয়ে করতে চাইছিলেন এবং তাকে হারাতে চাননি। এ বিষয়ে ওই পাকিস্তানি নারী ডাক্তার আরও বলেন, তিনি তার জীবনের সমস্ত সিদ্ধান্ত মাত্র এক দিনে নিয়েছিলেন।

আলাদাভাবে শাহজাদ বলেছেন, ‘কিশওয়ার তাকে তার হৃদয় (নিংড়ানো ভালোবাসা) দিয়েছিলেন। যদিও মানুষ সাধারণত শ্রেণী বা জাত-পাতের ভিত্তিতে বিয়ে করে। ভাগ্যই তাকে সাহায্য করেছে কিশওয়ারকে পেতে।’ এ সময় তিনি আরও বলেন যে কীভাবে তাদের দু’জনের দেখা হয়েছিল এবং তারা একে অপরের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছিলেন।

শাহজাদ জানান, তিনি তিনজন ডাক্তারের অফিস পরিষ্কার করতেন এবং চা পরিবেশন করতেন। এক দিন কিশওয়ার তার ফোন নম্বর চেয়েছিল, তারপর তারা একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। এরপর কিশওয়ার শাহজাদের একটি পোস্ট পছন্দ করেন। এটা শাহজাদ তার হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে পোস্ট করেছিলেন। এর পরের দিন এ নারী ডাক্তার তাকে তার হাসপাতালের কক্ষে ডাকেন। এরপর শাহজাদকে কিশওয়ার বলেন যে তিনি তাকে ভালোবাসেন। এ সময় শাহজাদ এ বিষয়টাকে বিশ্বাস করেননি। এমন প্রেমের প্রস্তাব শুনে তার জ্বরও এসেছিল। কিন্তু, এরপরেই তিনি বুঝতে পারেন যে কিশওয়ার তাকে সত্যিই ভালোবাসেন।

ওই ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও ক্লিপে এ দম্পতি জানান, কিশওয়ার হাসপাতালে তার চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন, কারণ তাকে তার বন্ধুরা কটূক্তি করতেন। এ দম্পতি এখন কাছাকাছি একটি ক্লিনিক খোলার পরিকল্পনা করছেন। তারা তাদের একটি ‘ইউটিউব চ্যানেল’ও পরিচালনা করছেন। এখানে তারা তাদের জীবনের প্রতিটি ঘটনা শেয়ার করেন। এ দম্পতির হৃদয়গ্রাহী প্রেমের গল্প ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের আনন্দিত করেছে। একজন অনলাইন ব্যবহারকারী লিখেছেন, চমৎকার, এ মানবিক গল্পের মাধুর্য ও সৌন্দর্য দর্শকের চোখেও ধরা পড়বে।

আরেকজন বলেছেন, এক চমৎকার দম্পতির অসাধারণ প্রেমের গল্প। তৃতীয় একজন মন্তব্য করেছেন, অসাধারণ সুন্দর দম্পতি।


Check Also

জেলের কেবিনে স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে দুই ঘণ্টা কাটাতে পারবেন বন্দিরা

বগুড়া ডেস্ক : জেলের ভেতরের কেবিনে স্ত্রী বা স্বামীর সঙ্গে ‘বিশেষ’ দুই ঘণ্টা কাটাতে পারবেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.