শিরোনাম

বগুড়ায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে গণধর্ষণ, অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৭


দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : গত বুধবার রাতে দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ মাদ্রাসা পড়ুয়া এক ছাত্রী (১৩) গণধর্ষণের অভিযোগে তিন ব্যক্তি অস্ত্র নিয়ে এক যুবকসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছেন।

থানায় দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তালোড়া সরমঞ্জাবাড়ি গ্রামের জনৈক গৃহবধূর স্বামী প্রায় ১০ বছর পূর্বে মারা যাওয়ার পর বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দেয়। ছোট মেয়েসহ ওই গৃহবধূ তার স্বামীর বাড়িতে বসবাস করে। সে অন্যর বাড়িতে কাজ করে তার ছোট মেয়েকে মাদ্রাসা লেখাপড়া করান। ছোট মেয়েটি (১৩) স্থানীয় স্বর্গপুর দারুল হাফেজিয়া কওমী মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশুনা করে। গৃহবধূ দিনের বেশির ভাগ সময় অন্যর বাড়িতেই কাজ করে। মেয়েটি মাদ্রাসায় পড়াশুনার পাশাপাশি বাড়িতে একাই থাকে। এই সুযোগে প্রতিবেশি নাসির উদ্দীনের ছেলে পান্না (৩৫), মৃত ইব্রাহিম আলী ওরফে বাটুর ছেলে ফেরদৌস (৫০) ও মৃত সিরাজ মন্ডলের ছেলে দুদু (৪০) মেয়েটিকে বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখায়। যৌন কামনায় চরিতার্থ করার জন্য পায়তারা করতে থাকে। মেয়েটি তাদের প্রলোভন দিয়েই ওই ব্যাক্তিরা নির্জন বাড়িতে গাঁজাসহ নেশাদ্রব্য সেবন করতে থাকে। এগুলো বাড়ির কাউকে না বলার জন্য তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

ঘটনার দিন গত মঙ্গলবার রাত ৮টায় বাড়ি ফিরে দেখতে পায় তার মেয়ে বাড়িতে নেই। আশেপাশে বিভিন্ন জায়গায় খোজাখুজি করেও তার সন্ধায় পায় নাই। বুধবার ভোর রাতে মেয়েটি বাড়িতে ফিরে আসলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় উক্ত আসামিরা তাকে প্রলোভন দিয়ে ফুসলাইয়া সরমঞ্জাবাড়ি তিন মাথা মোড়ের পশ্চিম পাশে মামলার আসামি ফেরদৌসের চাতালের গদিঘরে নিয়ে গিয়ে তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। এ ব্যাপারে মেয়েটির মা তিন জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো তিন চার জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করে। পুলিশ মামলা গ্রহণ করেই রাতেই সরমঞ্জাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি পান্না (৩৫), ফেরদৌস (৫০), দুদু (৪০) গ্রেফতার করে। এছাড়াও পুলিশ একই রাতে পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন।

এ সময় উপজেলা সদরের বড়ধাপ এলাকায় পুকুরের ধারে রাস্তার পাশে আব্দুস সামাদের ছেলে মাসুদ রানাকে (২৮) সন্দেহজনক ঘোরাফেরা করতে দেখে। এ সময় তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে সন্তষজনক কোন জবাব দিতে না পারায় তাকে তল্লাশি করে তার কাছ থেকে একটি ফোল্ডিং করা বার্মিজ চাকু, একটি বিশেষ কায়দায় তৈরী স্টিলের হাতল যুক্ত হাসুয়া যার দৈর্ঘ্য ৩৮ ইঞ্চি ও একটি বিশেষ ভাবে তৈরী দেশিয় অস্ত্র যার সামনের ভাগ সুচালো যা স্টিলের পাইপ দ্বারা তৈরী এবং একটি কাঠের হাতলযুক্ত রামদা, চাপ্পর যার দৈর্ঘ্য ১৫ ইঞ্চি উদ্ধার করে। এ সংক্রান্তে ওই দিন রাতেই এসআই মাসুদ রানা বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে থানায় অস্ত্র মামলা দায়ের করেছে। অপর দিকে পশ্চিম সুখানগাড়ী গ্রামের জনৈক ব্যক্তির টিন সেটের বাড়ির শয়নঘরের মেঝেতে তাস দিয়ে জুয়া খেলার সময় তিন জুয়াড়িকে গ্রেফতার করেছে।

এরা হলো পশ্চিম সুখানগাড়ী গ্রামের এবাদুল হোসেনের ছেলে শাহীন আলম (২৫), নজরুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমান (২২) ও মৃত আব্দুস সবুজের ছেলে আব্দুর রশিদ (৩২)। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জুয়া খেলার সরঞ্জামাদি ও নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে। ওই রাতেই তাদের বিরুদ্ধে থানায় জুয়া আইনে মামলা হেছে। পুলিশ গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বগুড়া কোর্ট হাজতে প্রেরণ করেছেন এছাড়াও ধর্ষণের শিকার মাদ্রাসা ছাত্রীকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও জবানবন্দী লিপিবদ্ধর জন্য আদালতে প্রেরণ করেছে।


Check Also

বগুড়ায় তিন করাতকল মালিকের জরিমানা

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউএনও সুমন জিহাদীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত বগুড়া-নওগাঁ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.