শিরোনাম

মায়ের সঙ্গে ‘কপাল পুড়তে’ পারে সাদ এরশাদেরও


বগুড়া ডেস্ক : অনেকদিন ধরে দেশে নেই জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ ও ছেলে রাহগির আল মাহীর (সাদ এরশাদ)। চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে বিদেশে থাকলেও দলে তাদের নিয়ে আলোচনা যেন পিছু ছাড়ছে না। নিজেরপন্থী নেতাদের নিয়ে সম্মেলনের ডাক দেওয়া, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ইভিএমে ভোটের পক্ষে কথা বলাসহ বেশ কিছু কর্মকাণ্ডে রওশনের ওপর চটেছেন দেবর জিএম কাদেরসহ মূল ধারার নেতারা। এসবের পেছনে সাদ এরশাদ কলকাঠি নাড়ছেন বলে অভিযোগ জিএম কাদেরপন্থিদের। ফলে রওশন এরশাদকে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতার পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি সাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পার্টি। গত শনিবার (৮ অক্টোবর) জাপার প্রেসিডিয়াম (সভাপতিমণ্ডলী) ও সংসদ সদস্যদের যৌথ সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ঢাকার বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার ওই সভায় অবশ্য সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তাদের শেষবারের জন্য সতর্ক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মূল ধারার বাইরে গিয়ে কর্মকাণ্ড পরিচালনা থেকে সরে না আসলে তাদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাবে জাপা। দলের গুরুত্বপূর্ণ ওই সভায় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য মিলে ৩৮ জন অংশ নেন। যাদের মধ্যে ২০ জন সংসদ সদস্য ও ১৮ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য। তবে দেশে থাকলেও সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি অব্যাহতি দেওয়া মসিউর রহমান রাঙ্গাকে।

জানা গেছে, মা-ছেলের সঙ্গে কথা বলার জন্য ওই সভায় জাপার আরেক সংসদ সদস্য আহসান আদিলুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরশাদের বোনের ছেলে সংসদ সদস্য আদিলুর দলের যুগ্ম মহাসচিবও। বলা হয়েছে, ব্যাংককে থাকা মামীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করবেন আদিলুর। সেটা সম্ভব না হলে সাদ এরশাদের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, দল এখন আর কোনো বিষয়কে হালকা করে দেখবে না। কোনো অপতৎপরতা দেখলে যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ছে। তবে রওশন এরশাদ ও সাদ এরশাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

ওই সভা সূত্রে জানা গেছে, সভায় রওশন এরশাদ ও তাঁর ছেলের প্রসঙ্গে জোরালো আলোচনা হয়। যেখানে দলের দশম সম্মেলনের নামে রওশন এরশাদকে সামনে রেখে সম্প্রতি গোলাম মসিহসহ কতিপয় নেতার তৎপরতার বিষয়টি উঠে আসে। যদিও ইতোমধ্যে রওশদপন্থী হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন জিএম কাদের। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

পরে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ২৬ নভেম্বর আহ্বান করা সম্মেলনের তৎপরতা থেকে রওশন ও সাদকে সরে আসার জন্য দলের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হবে। এরপরও সরে না এলে রওশন এরশাদকে জাপার ‘প্রধান পৃষ্ঠপোষক’ এবং ‘যুগ্ম মহাসচিব’–এর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে রংপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সাদ এরশাদকে।

এদিকে ওই সভায় অভিযোগ করা হয়, ব্যাংককে চিকিৎসাধীন রওশন এরশাদকে অনেকটা জিম্মি করে রেখেছেন সাদ এরশাদ। পছন্দের নেতা ছাড়া কাউকে কথা বলতে দেন না সাদ।

অন্যদিকে শনিবারের সভার পর প্রকাশ্যে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

রোববার দলের কোনো কোনো নেতার বক্তব্য ও আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, জাতীয় পার্টি কারও দালালি করে রাজনীতিতে টিকে থাকবে না। এক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ আসবে সেটা মোকাবেলা করেই তারা টিকে থাকবেন। এতে দলের কেউ বাধা হলে অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন জাপা চেয়ারম্যান।

ইভিএম নিয়ে রওশন এরশাদের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমাদের কেউ কেউ মনে করছেন, একটি দল নির্বাচনে কারচুপি করে বিজয়ী হয়ে শর্টকাট পদ্ধতিতে তাদের মন্ত্রী-এমপি করবেন। এটা যারা মনে করেন তারা জাতীয় পার্টির জন্য জীবাণু। তাদের জাতীয় পার্টি থেকে চলে যেতে হবে অথবা সংশোধন হতে হবে। আমরা শক্তিশালী জাতীয় পার্টি গড়তে, সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করব। প্রয়োজনে অপ্রিয় কিছু সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হবো না।


Check Also

আ’লীগ পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্র ধ্বংস করছে : ফখরুল

বগুড়া ডেস্ক : আওয়ামী লীগ সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির …

Leave a Reply

Your email address will not be published.