শিরোনাম

বগুড়ায় পুলিশের সামনে এমপি সমর্থক ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের মারামারি


শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনের সংসদ সদস্যের সমর্থক ও শাজাহানপুরের যুবলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে পুলিশের উপস্থিতিতে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান এগিয়ে এলে এমপি তার লাইন্সেসকৃত পিস্তল তাক করে। ঘটনাটি টক অব দ্যা শাজাহানপুরে পরিণত হয়েছে। অপরদিকে এমপি’র পিস্তল প্রদর্শনের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা আওয়ামীলীগ।

জানা গেছে, বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটা থেকে শাজাহানপুর উপজেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শুরু হয়। সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু উক্ত সভায় যোগ দিতে সাড়ে দশটার দিকে উপজেলা পরিষদে আসেন। সভা শুরু হওয়ায় তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এমপি’র ব্যক্তিগত সহকারীসহ ৬/৭ জন সমর্থক তার সঙ্গে ছিলেন। এ সময় উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বাদশা আলমগীর ৪/৫ জন নেতাকর্মীসহ এমপি’র কাছে গিয়ে প্রকল্পের জন্য দেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনামূলক কথা চলছিল। এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি থেকে পুলিশের সামনেই মারামারি শুরু হয়। এ সময় হট্রগোলের শব্দ শুনে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রভাষক সোহরাব হোসেন ছান্নু এগিয়ে এলে এমপি রেজাউল করিম বাবলু তার কাছে থাকা লাইসেন্সকৃত পিস্তল বের করে উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে তাক করে। মারামারিতে এমপি সহকারী রেজাউলসহ উভয় পক্ষের দু’জন আহত হয়। পুলিশ মুহূর্তের মধ্যেই পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এমপি দ্রুত উপজেলা পরিষদ ত্যাগ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বাদশা আলমগীর বলেন, ২০১৯ সালে এমপির নামে মসজিদ রাস্তাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ আসে। ওই সময় অনেকের কাছে বরাদ্দ দেওয়ার নামে টাকা নিয়েছিলেন এমপি। আমার কাছ থেকেও ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেন এমপি। যাতে উন্নয়ন কাজগুলো হয়। সেই বরাদ্দ আজও দেইনি। টাকাও ফেরত দেননি। উক্ত টাকা চাইতে গেলে তার লোকজন আমার ওপর লাঠি দারা হামলা চালায়। হামলা ঠেকাতে আমার এক কর্মী এগিয়ে এলে তাকেও পিটায়। হট্টগোলের শব্দ শুনে আইনশৃঙ্খলা সভা থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান বের হয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত হতে বলে। এ সময় এমপি পিস্তল বের করে উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে তাক করে ভীতি প্রর্দশন করে।

উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রভাষক সোহরাব হোসেন ছান্নু বলেন, বাইরে হট্টগোলের শব্দ শুনে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা থেকে বের হয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত হতে বলি। এ সময় এমপি সাহেব হঠাৎ করে পিস্তল বের করে আমার পায়ের দিকে তাক করে। সে সময় সেখানে পুলিশ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় আমি শঙ্কিত ও লজ্জিত।

বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু জানান, উপজেলার মাসিক আইন শৃংঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দিতে গেলে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে অবস্থান নেওয়া যুবলীগ নেতা বাদশা আলমগীরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমার সাথে থাকা ব্যক্তিগত সহকারীসহ লোকজনদেরকে পুলিশের সামনেই মারপিট করতে থাকে। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে এলে সেও আমার সাথে খারাপ আচরণ করে। অবশেষে বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষার জন্য আমি পিস্তল বের করি। তবে কারো দিকে সে পিস্তল তাক করা হয়নি। শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, এমপি’র সঙ্গে যুবলীগ নেতাকর্মীদের হট্রগোল শুরু হয়েছিল। পুলিশ শক্ত হাতে তা নিয়ন্ত্রণ করে। কোন পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Check Also

বগুড়ায় জহুরুল হত্যা মামলার প্রধান আসামী রাব্বি গ্রেফতার

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শাজাহানপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে খুন হন জহুরুল ইসলাম। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.