শিরোনাম

সৎ ব্যবসায়ীর পুরস্কার জান্নাত


ধর্ম ডেস্ক : রোজগারের ক্ষেত্রে ইসলাম নিয়ম-কানুন দিয়েছে। হালাল-হারামের সীমা নির্ধারণ করেছে। সুতরাং হালাল পন্থায় উপার্জন করতে হবে। হারাম পন্থা অবলম্বন করে উপার্জন করা গুনাহের কাজ। এটাও লক্ষ রাখতে হবে, উপার্জন যেন আমাকে আল্লাহবিমুখী করে না দেয়। জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় রোজগারের পাশাপাশি আখেরাতের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করতে হবে। মুমিনের কাছে আখেরাত অর্জনই শ্রেষ্ঠ। আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়াই মুখ্য।

ব্যবসা ইবাদত: ব্যবসায় মিথ্যা ও প্রতারণা করা যাবে না। সততার সঙ্গে ব্যবসা করতে হবে। সততার সঙ্গে ব্যবসা করা ইবাদত। সৎ, আমানতদার ব্যবসায়ীর জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীরা (আখেরাতে) নবী, সত্যবাদী ও শহিদদের সঙ্গে থাকবে।’ (তিরমিজি: ১২০৯)

মিথ্যা কসমে বরকত নষ্ট: অনেক ক্ষেত্রে দোকানি বা ব্যবসায়িরা নিজেদের পণ্যের সাফাই ও পণ্য ভালো প্রমাণ করতে মিথ্যা কোয়ালিটি বলতে থাকে। এমনকি কসম কাটতেও দ্বিধাবোধ করে না— যা একজন সৎ ব্যবসায়ীর জন্য উচিত নয়। অতিরিক্ত কসম মানুষের মনে ব্যক্তি সম্পর্কে মন্দ ধারণা সৃষ্টি করে। কসম দ্বারা ব্যক্তির ব্যবসার বরকত নষ্ট হয়ে যায়। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, বেচা-কেনার মধ্যে শপথ করা; যদিও উপস্থিতভাবে লাভজনক কিন্তু মূলত তা মুনাফা ও কল্যাণের জন্য ধ্বংসকর।’ (মুসলিম: ৩৯৭৯)

রিজিক নির্ধারিত: আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সৃষ্টির আগে তার রিজিক নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যার কোনো হেরফের হয় না। বান্দা কী খাবে, কখন খাবে, কোথায় খাবে,— সব আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। আর আল্লাহ কিছু রিজিক রেখেছেন কর্মের মাধ্যমে; যা বান্দাকে উপার্জন করতে হয়। আর উপার্জনের অনেক মাধ্যম রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম ব্যবসা। যার মাধ্যমে বান্দা রিজিকপ্রাপ্ত হয়। মনে রাখতে হবে, রিজিক নির্ধারিত। আল্লাহ বলেন, ‘ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহরই। তিনি এদের স্থায়ী ও অস্থায়ী অবস্থিতি সম্বন্ধে অবহিত; সুস্পষ্ট কিতাবে (জীবনধারণের) সব কিছুই লিপিবদ্ধ আছে।’ (সুরা হুদ: ৬)

সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর ভয়: সবসময় আল্লাহ তাআলার ভয় অন্তরে রাখা। আল্লাহর ভয় যদি কারো মধ্যে চলে আসে তার দ্বারা মিথ্যা, ধোঁকাবাজি, প্রতারণা সম্ভব নয়। আর আল্লাহর ভয় দ্বারা আল্লাহ তাআলা বান্দার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে আল্লাহ ও আখেরাত দিবসের প্রতি ঈমান আনে এটি দ্বারা তাকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে। যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা তালাক: ২-৩)


Check Also

আকিকা ৭ম দিনে না করলে কি শুদ্ধ হবে?

ধর্ম ডেস্ক : ইসলাম শাশ্বত সত্য ধর্ম। এতে আছে জীবনের সকল সমস্যার সমাধান ও প্রতিটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.